ইন্সুরেন্স

জীবন বীমা কি এর সুবিধা ও অসুবিধা

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো জীবন বীমা কি এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা গুলোর সম্পর্কে। আপনারা যারা জীবন বীমা পলিসি করতে চাচ্ছেন তাদের অবশ্যই জীবন বীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জীবন বীমার সুফল দেশের সাধারণ মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া জন্য ১৯৭২ সনে রাষ্ট্রপতির ৯৫নং আদেশ বলে বাংলাদেশের বীমা শিল্প জাতীয়করণ করা হয়।

বাংলাদেশ বীমা শিল্প জাতীয়করণের পর জীবন বীমা ব্যবসায় নিয়োজিত ৩৭ টি কোম্পানি দায়-দেনা নিয়ে প্রথমে রূপসা ও সুরমা নামে দুইটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

পরবর্তীতে কর্পোরেশনদ্বয়ের সমন্বয়ে ১৯৭৩ সালে ৬নং আইন অনুযায়ী জীবন বীমা কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর থেকে জীবন বীমা কর্পোরেশন তাদের ব্যবসায়িক কর্মকান্ডের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নমূলক এবং দেশের সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

জীবন বীমা কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠারগ্নে ১৫.৭০ কোটি টাকা ঘাটতি, ২১.৮৩ কোটি টাকা লাইফ ফান্ড, ৬.৪৫ কোটি টাকা প্রিমিয়াম এবং ১৭ টি বানিজ্যিক ভবন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর ২০২২ সালের শেষে জীবন বীমা কর্পোরেশন ২,৪৭৪.৭৯ কোটি টাকার লাইফ ফান্ড উন্নতি করতে সক্ষম হয়।

বর্তমানে জীবন বীমা কর্পোরেশন সারা বাংলাদেশে ৪৩৯ টি শাখা অফিস, ৮১ টি সেলস, ১৩ টি কর্পোরেশন এবং ৮ টি রিজিওনাল অফিস নিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। 

জীবন বীমা কি (What is life insurance)

জীবন বীমা একটি চুক্তি যা একটি বীমা কোম্পানি এবং একজন বীমা গ্রহীতার মধ্যে সম্পাদিত হয়। যেখানে বীমা কোম্পানি এই মর্মে বীমা গ্রহীতাকে নিশ্চয়তা প্রদান করে যে বীমা গ্রহীতার মৃত্যু হলে একটি নিদিষ্ট পরিমাণ অর্থ বীমা গ্রহীতার উত্তরাধিকারীকে প্রদান করবে।

বীমা গ্রহীতা ও বীমা কোম্পানির চুক্তির শর্তানুসারে কখনো যদি বীমা গ্রহীতা মারাত্মক অসুস্থ হয় তাহলে বীমা গ্রহীতাকে অর্থ প্রদান করা হবে। সাধারণত বীমা গ্রহীতা নিদিষ্ট সময় বীমা কর্তৃপক্ষকে নিদিষ্ট পরিমান অর্থ প্রদান করে।

বীমা গ্রহীতা বীমা পলিসি করার পরে মানসিক ভাবে প্রশান্তি লাভ করে, কারণ তিনি জানেন তার মৃত্যুর পরে তার উত্তরাধিকারীরা অর্থ পাবেন। এতে করে তাদের অর্থ সমস্যায় পড়তে হবে না।

মনে রাখবেন, বীমা একটি আইনগত চুক্তি এবং চুক্তির শর্ত বীমার আওতা দ্বারা সীমাবদ্ধ। এখানে বিশেষ শর্তাবলী লিখিত থাকে। যেমন: যুদ্ধের কারণে মৃত্যু ঘটলে বা আত্মহত্যা করলে বীমা গ্রহীতার উত্তরাধিকারীকে কোনো অর্থ প্রদান করা হবে না।

জীবন বীমার সুবিধা

আমাদের মধ্যে অনেকে মনে করেন জীবন বীমা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে জীবন বীমা আপনার এবং আপনার পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

চলুন নিচে থেকে জীবন বীমার সুবিধাসমূহ জেনে আসি। যা সম্পর্কে আমাদের তেমন ভালো ধারণা নেই।

পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা

আপনার যদি জীবন বীমা করা থাকে তাহলে আপনার আয়ের উপর যারা নির্ভরশীল তাদের অর্থসংকটে পড়তে হবে না। আপনার অবর্তমানে বড় বা দৈনন্দিন খরচ তারা এই অর্থ থেকে নির্বাহ করতে পারবেন।

নিরাপদ বিনিয়োগ খাত

বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবন বীমাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ খাত হিসেবে ধরা হয়। জীবন বীমা আপনার মৃত্যু ঝুঁকি কমায়, কারণ বীমা কোম্পানি নিদিষ্ট সময় ধরে আপনার কাছ থেকে নিদিষ্ট হারে প্রিমিয়াম গ্রহন করে।

বীমার মেয়াদপূর্তিতে আপনি যদি জীবিত থাকেন তাহলে আপনি এককালীন ভাবে মোটা অংকের অর্থ পাবেন। এই অর্থ আপনি যেকোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারবেন। এজন্য জীবন বীমাকে নিরাপদ বিনিয়োগ খাত হিসেবে ধরা হয়।

অসুস্থতার ব্যয় বহন করে

জীবন বীমা কোম্পানির এমন কিছু চুক্তি অনুমোদন করে যেখানে বীমাকারীর মৃত্যুতে বীমাকৃত অর্থ প্রদান করা হয়। আবার বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে বীমাকারী যদি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে তাহলে বীমা কোম্পানি চুক্তি অনুযায়ী তার চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে।

জীবন বীমা হতে প্রাপ্ত অর্থ করমুক্ত

আপনার জীবন বীমার প্রিমিয়াম চলাকালীন সময় যদি আপনার মৃত্যু হয় তাহলে আপনার পরিবার জীবন বীমা কোম্পানি থেকে এককালীন মোটা অংকের অর্থ পাবে। এই অর্থ আয়করের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

জীবন বীমা কোম্পানি থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর কোনো ধরনের কর (Tex) দিতে হবে না। এটা সম্পূর্ণভাবে করমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য করা হবে।

ঋণের দায়মুক্তি

ধণগ্রস্ত অবস্থায় যদি আপনার মৃত্যু হয় তাহলে উক্ত ঋণ পরিশোধ করার সকল দ্বায়িত্ব গিয়ে পড়বে আপনার পরিবারের উপর। আপনার যদি জীবন বীমা করা থাকে তাহলে আপনার সকল ঋণ পরিশোধ করবে জীবন বীমা কোম্পানি। এতে আপনার পরিবারকে ঋণ পরিশোধ করতে হবে না।

অবসর জীবনের ভরসা

আপনার যদি জীবন বীমা করা থাকে তাহলে নিদিষ্ট মেয়াদ শেষে এককালীন মোটা অংকের অর্থ পাবেন। যা আপনার অবসর জীবনের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে কাজ করবে। যার ফলে ভবিষ্যতে অবসর জীবনে অর্থের দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত থাকতে পারবেন।

জীবন বীমার অসুবিধা

(১) আপনি যদি কখনো জীবন বীমা প্রিমিয়াম দিতে অসমর্থ হয়ে পড়েন তাহলে আপনার জমা দেওয়া সর্বমোট অর্থ হতে সামান্য পরিমান অর্থ পাবেন।

(২) আপনি যদি বেশি বয়সে বা অসুস্থ অবস্থায় জীবন বীমা পলিসি করেন তাহলে বেশি বয়স এবং অসুস্থ থাকায় জীবন বীমা কোম্পানি আপনার নিকট থেকে বেশি অর্থ প্রিমিয়াম চাইবে।

(৩) সম্পূর্ণ জীবনের জন্য জীবন বীমা করা অনেক ব্যয়বহুল। এজন্য মেয়াদি জীবন বীমা করা অনেক ভালো।

(৪) জীবন বীমায় বিভিন্ন ধরনের প্ল্যান রয়েছে। বীমা করার আগে সকল প্ল্যান গুলো জেনে নিবেন। কারণ অনেক সময় অনেক কিছু থেকে আপনি বঞ্চিত হতে পারেন।

(৫) জীবন বীমার প্রিমিয়াম নিয়মিত পরিশোধ করার জন্য অনেক সময় পরিবারের মাসিক খরচ কম করতে হয়। অধিকাংশ মানুষ জীবন বীমা করেন অবসর সময়, পরিবার ও বাচ্চাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে।

(৬) জীবন বীমা এজেন্ট বিশ্বাসযোগ্য কিনা ভালো করে যাচাই করে নিবেন এবং সকল তথ্য এজেন্টের মাধ্যমে ভালো করে জেনে নিবেন।

শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম জীবন বীমা কি, জীবন বীমার সুবিধা ও জীবন বীমার অসুবিধা সমূহ সম্পর্কে। এই বিষয় আপনার মনে কোনো প্রশ্ন জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button