লিথুনিয়া দেশ কেমন জানেন

আপনারা যারা বাংলাদেশ, ভারত সহ অন্যান্য দেশ লিথুনিয়া যেতে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অনেকে জানতে চাচ্ছেন লিথুনিয়া দেশ সম্পর্কে। তাই আজকের আর্টিকেলে লিথুনিয়া দেশ কেমন এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আলোচনা করবো।

লিথুনিয়া উত্তর ইউরোপের একটি বাল্টিক রাষ্ট্র। লাতভিয়া, এস্তোনিয়া এবং লিথুনিয়া এই ৩টি বাল্টিক রাষ্ট্রের মধ্য লিথুনিয়া বৃহত্তর একটি রাষ্ট্র। দেশটির রাজধানী ও বৃহত্তর শহর হচ্ছে ভিলনিয়াস।

লিথুনিয়া বাল্টিক সাগরের পূর্ব উপকূলে সুইডেন এর বিপরীতে এবং বেলারুশ সীমান্তে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত। লিথুনিয়ার উত্তরে লাটভিয়া, দক্ষিণ- পূর্বে বেলারুশ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে পোল্যান্ড অবস্থিত।

লিথুনিয়া দেশ কেমন

লিথুনিয়া নদী, হ্রদ ও অরণ্যে পরিপূর্ণ একটি দেশ। জনসংখ্যার দিক থেকে এদেশের অধিকাংশ মানুষ জাতিগতভাবে লিথুয়ানীয় এবং রোমান ক্যাথলিক গির্জার অনুসারী।

এক সময় লিথুনিয়া বৃহত্তর একটি দেশ ছিলো কিন্ত বর্তমানে ইউক্রোন ও বেলারুশের অধীনে রয়েছে। ১৯১৮ সালে লিথুনিয়া একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে জন্ম লাভ করলেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৪০ সালে দখল নেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সাম্যবাদী সরকার প্রায় ৪ দশকের বেশি সময় পরিচালনা করেন। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পরাজয়ের পর লিথুনিয়া আবার স্বাধীনতা লাভ করে। এর ১৯৯২ সালে প্রথম গণতান্ত্রিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়।

লিথুনিয়া ১৯৯০ এর দশকে অর্থনীতি বিরাষ্ট্রীয়করণে মনোযোগ দেওয়ার পর থেকে অর্থনৈতিক মন্দা,মুদ্রাস্ফুীতি এবং বেকারত্ব সমস্যা ভয়াবহ রূপ নেয়। ২১ শতকে লিথুনিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো সদস্য পদ লাভ করার পর থেকে বানিজ্য ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে আরম্ভ করে।

বর্তমানে লিথুনিয়া একটি শিল্প উন্নত দেশ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে কাজের উদ্দেশ্য প্রত্যেক বছর হাজার হাজার মানুষ লিথুনিয়া যাচ্ছেন। বাংলাদেশ, ভারত সহ আরো বিভিন্ন দেশ থেকে প্রচুর মানুষ লিথুনিয়া যাচ্ছেন।

দেশটিতে বর্তমানে পুরুষের তুলনায় কয়েক গুন মেয় রয়েছে। প্রকতৃক সৌন্দর্যের দেশ লিথুয়ানিয়ায় প্রত্যেক বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ভ্রমণ করতে আসে।

লিথুনিয়া ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিউনে যোগ দেয়। এরপর থেকে দেশটি ইউরোপের বৃহত্তর বাজারে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশটি অর্থনৈতিক উন্নতি লাভ করে।

২০২২ সালে লিথুনিয়াতে বিদেশিদের বিনিয়োগের পরিমান ছিলো ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাধ্যমে দিন দিন বদলে যেতে থাকে দেশটির অর্থনৈতি। বর্তমানে দেশটির মাথাপিছু আয় ২৮ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি। যা সারা বিশ্বের মধ্যে ৪১ তম। বর্তমানে দেশটির জিডিপি ১১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। 

দেশটির অধিকাংশ মানুষ লিথুয়ানিয়ার ভাষায় কথা বলে এবং এটাই তাদের রাষ্ট্র ভাষা। লিথুনিয়া মুদ্রার নাম ইউরো। ২০০৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দেওয়া পর ২০০৭ সালে থেকে ইউরো দেশটির মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করা শুরু করে।

প্রকতিক সুন্দর্যের দিক থেকে লিথুনিয়া অন্যতম। দেশটিতে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার উপকূল রেখা রয়েছে। এই উপকূল রেখা জুড়ে ঘনবন এবং ছোট বড় লেক রয়েছে। বলা যায় ইউরোপের সবচেয়ে সুন্দর লেক গুলো লিথুয়ানিয়া।

শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম লিথুনিয়া দেশ কেমন এই সম্পর্কে। এই বিষয় কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচের কমেন্টে লিখে জানাবেন এবং লেখাটি ভালো লাগলে শেয়ার করবেন।

FAQ (প্রশ্ন উত্তর)

লিথুনিয়া মাতৃভাষা কি?

লিথুনিয়ার মাতৃভাষা লিথুনীয়া। দেশটির অধিকাংশ মানুষ লিথুয়ানীয় ভাষায় কথা বলে।

লিথুনিয়া কি দেশ নাকি রাষ্ট্র?

লিথুনিয়া একটি সংসদীয় প্রজাতন্ত্র যার সরকার প্রধান দেশটির প্রধানমন্ত্রী। একজন রাষ্ট্রপ্রধান রয়েছে যিনি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করেন।

লিথুয়ানিয়া এর মুদ্রার নাম কি?

লিথুয়ানিয়া মুদ্রার নাম ইউরো। ২০০৭ সাল থেকে লিথুয়ানিয়া ইউরো তাদের মূদ্রা হিসাবে ব্যবহার করে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *