জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার নিয়ম ২০২৪

জন্ম নিবন্ধনে বয়স ভুল থাকলে অনলাইনে আবেদন করে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যে বয়স সংশোধন করা যায়। আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে এবং অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার নিয়ম।

আপনি যখন জন্ম নিবন্ধন সনদের বয়স সংশোধন করবেন তখন আপনার প্রমান হিসাবে বেশ কিছু কাগজপত্র লাগবে। এর পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন বয়স বাড়ানো বা কমানোর নিয়ম

বর্তমানে এমন অনেক মানুষ রয়েছে যাদের জন্ম নিবন্ধনে বয়স বেশি বা কম দেওয়া রয়েছে। আপনি চাইলে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে উপযুক্ত প্রমান অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

মনে করুন, আপনার শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদের বয়স সংশোধন করবেন। সেক্ষেত্রে শিশুর জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার জন্য টিকা কার্ড ব্যবহার করতে হবে।

আবার অনেকের কম্পিউটারে ভুল টাইপিং হওয়ার কারণে জন্ম নিবন্ধন সনদে বয়স ভুল হয়ে থাকে। যেমন, আপনার বয়স ১৯৮০ কিন্তু জন্ম নিবন্ধন তৈরির সময় কম্পিউটারে ভুল টাইপিং করার জন্য ১৯৮৫ আসলো।

এই রকম ভুল সংশোধন করার জন্য স্কুল সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টকে প্রমান হিসাবে ব্যবহার করতে হবে।

আবার অনেকের জন্ম নিবন্ধনে বয়স ভুল আছে কিন্তু প্রমানের জন্য কোনো কাগজপত্র নেই। সেক্ষেত্রে আপনি আপনার পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন সনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রমান হিসাবে ব্যবহার করে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করতে কি কি কাগজপত্র লাগে ২০২৪

জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার জন্য আপনাকে অবশ্যই কিছু প্রমান হিসাবে কিছু কাগজপত্র ব্যবহার করতে হবে। নিচে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুলো উল্লেখ করা হয়েছে।

  • শিশুর টিকা কার্ড বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের জন্ম নিশ্চিত পত্রের সত্যয়িত কপি।
  • জন্ম নিবন্ধনকারীর যেকোনো শিক্ষা সনদপত্র।
  • জন্ম নিবন্ধনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • জন্ম নিবন্ধনকারীর পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • পুরাতন হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন (যদি আগের হাতে লেখা জন্ম নিবন্ধন থাকে)।

জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন ২০২৪ নতুন আইন

আপনারা হয়তো অনেকে জানেন জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন অনেক দিন বন্ধ ছিলো। ইতিমধ্যে বয়স সংশোধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে পূর্বের মতো অনলাইনে আবেদন করে আবেদন কপি বয়স ভিক্তিক কার্যলয়ে জমা দিতে হবে।

  • ২ বছরের কম বয়স সংশোধন করতে জন্য অনলাইনে আবেদন করে আবেদন কপি উপজেলা নির্বাহি অফিসে জমা দিতে হবে।
  • ২ থেকে ৪ বছরের মধ্যে বয়স সংশোধন করার জন্য অনলাইনে আবেদন করে আবেদন কপি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় জমা দিতে হবে।
  • ৪ বছরের বেশি বয়স সংশোধন করতে হলে অনলাইনে আবেদন করে আবেদন কপি ঢাকা রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় জমা দিতে হবে।
নোট: মনে রাখবেন জন্ম নিবন্ধন বয়স বা জন্ম তারিখ সংশোধন করার জন্য প্রমান হিসাবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকুমেন্টস সাবমিট করতে হবে। প্রমান পত্র সাবমিট না করলে জন্ম নিবন্ধন বয়স  বা জন্ম তারিখ সংশোধন হবে না।

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার নিয়ম ২০২৪

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন আবেদন করতে https://bdris.gov.bd এই লিংকে ভিজিট করুন। এখানে জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্ম তারিখ এবং ক্যাপচা লিখে অনুসন্ধান অপশনে ক্লিক করুন।

এরপর বয়স সংশোধিত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করে আবেদন সাবমিট করুন। আবেদনের প্রিন্ট কপি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং জন্ম নিবন্ধন ফি জমার কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিসে জমা দিন। কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিলে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন হবে।

ধাপ ১: জন্ম নিবন্ধন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার জন্য প্রথমে এই https://bdris.gov.bd লিংকে যান। এরপর মেন্যুবার থেকে “জন্ম নিবন্ধন” অপশন থেকে “জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ২: জন্ম নিবন্ধন নম্বর ও জন্ম তারিখ দিয়ে তথ্য বের করুন

এখানে আপনার ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর, জন্ম তারিখ লিখুন। এরপর ক্যাপচা লিখে নিচের “অনুসন্ধান” অপশনে ক্লিক করুন।

অনুসন্ধান অপশনে ক্লিক করার পর জন্ম নিবন্ধন সনদের কিছু তথ্য দেখতে পাবেন। এখান থেকে “নির্বাচন” অপশনে ক্লিক করে “কনফার্ম” অপশনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩: সংশোধন তথ্য নির্বাচন করুন

এখানে আপনি যে তথ্য সংশোধন করতে চান সেটা সিলেক্ট করুন। একাধিক তথ্য সংশোধন করতে “আরো তথ্য সংযোজন করুন” অপশনে ক্লিক করুন।

আমরা যেহেতু বয়স বা জন্ম তারিখ সংশোধন করবো এজন্য বিষয়: জন্ম তারিখ, চাহিত সংশোধিত তথ্য: অপশনে সঠিক জন্ম তারিখ লিখুন এবং সংশোধনের কারণ: “ভুল লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল” সিলেক্ট করুন।

ধাপ ৪: নিজের ঠিকানা নির্বাচন করুন

আপনার নিজের জন্মস্থানের ঠিকানা সঠিক ভাবে নির্বাচন করুন। এরপর স্থায়ী ঠিকানা নির্বচান করুন এবং বর্তমান ঠিকানা নির্বাচন করুন। এরপর “সংযোজন” অপশনে ক্লিক করে প্রয়োজনীয় প্রমানপত্র আপলোড করুন।

ধাপ ৫: আবেদনকারীর তথ্য প্রদান করুন

এখানে আবেদনকারী নিজে আবেদন করছে কিনা বা অন্য কেউ আবেদন করছে সেটা সিলেক্ট করুন। এরপর আবেদনকারীর নাম লিখুন।

“ফোন নম্বর” অপশনে ফোন নম্বর সিলেক্ট করা থাকলে “ওটিপি পাঠান” অপশনে ক্লিক করে ওটিপি বসিয়ে সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন। এরপর আবেদনপত্র প্রিন্ট করে সংগ্রহ করুন।

ফোন নম্বর সিলেক্ট করা না থাকলে আপনার ফোন নম্বর লিখে ওটিপি পাঠান অপশনে ক্লিক করলে ওটিপি আসবে। ফোন নম্বরের পরিবর্তে ইমেইল নম্বর ব্যবহার করলে ওটিপি ইমেইল নম্বরে পাঠিয়ে দিবে।

ধাপ ৬: পেমেন্ট করুন এবং আবেদনপত্র জমা প্রদান

আবেদনপত্র প্রিন্ট করার পরে জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন ফি জমা দিন। এরপর ফি জমার রশিদ আবেদনপত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট কার্যলয় জমা দিন।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ফি নির্ধারন করা হয়েছে। জন্ম নিবন্ধন সরকারি ফি ৫০ টাকা এবং জন্ম তারিখ সংশোধন ফি ১০০ টাকা। এছাড়া আপনার অল্প কিছু টাকা খরচ হতে পারে।

আরো পড়ুন: জন্ম নিবন্ধন ফি

শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম জন্ম নিবন্ধন বয়স সংশোধন করার নিয়ম এবং প্রমান হিসাবে কি কি কাগজপত্র লাগে সহ আরো বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে। এই বিষয় কোনো প্রশ্ন জানার থাকলে কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন।

FAQ (প্রশ্ন উত্তর)

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত দিন সময় লাগে?

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন ৫-৭ দিন সময় লাগে। কিছু ক্ষেত্রে এর থেকে বেশি সময় লাগে।

জন্ম নিবন্ধন কতবার সংশোধন করা যায়?

জন্ম নিবন্ধন মোট ২ বার সংশোধন করা যায়। ২ বারের বেশি জন্ম নিবন্ধন সনদ সংশোধন করতে পারবেন না।

পাসপোর্ট দিয়ে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায়?

হ্যাঁ, জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার জন্য পাসপোর্ট প্রমাণপত্র হিসাবে আপলোড করলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারবেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *